পানি সঞ্চালন লাইনের কাজে বাধা: সমাধানে ছুটে গেলেন এমপি নুরুল আমিন

মিরসরাইতে অবস্থিত ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে’ শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পানির চাহিদা পূরণে মুহুরী প্রকল্প রির্জাভার থেকে পানি এনে তা শোধানের মাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘পানি শৌধানাগার’। ৭৬১ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ (বেজা)। 


ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষের দিকে উৎপাদনে যেতে পারে পানি শৌধানাগারটি। 

কিন্তু সম্প্রতি পানি সঞ্চালন লাইনের কাজ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। জোরারগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের বুক চিড়ে লাইনটি স্থাপন করায় সড়কটি নষ্টের অভিযোগে স্থানীয়রা কাজে বাধা দেয়। পরে সোমবার (২ মার্চ ) দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন গিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদেও সাথে কথা বলে সমস্যাটির সমাধান করেন।
 

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পানির চাহিদা পূরণে মুহুরী প্রকল্পের রিজার্ভ পানি শোধন করে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের উপযোগী গড়ে তুলতে দৈনিক ১০০ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি ) ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পানি শৌধানাগার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির ব্যায় ধরা হয়েছে ৭৬১ কোটি টাকা। সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালে। ১৮ একর জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে পানি শৌধানাগারটি। মুহুরী নদীর রিজার্ভ পানি আনার জন্য বসানো হচ্ছে ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার পাইপ লাইন। পানি শৌধানাগার নির্মাণ ও পাইপ লাইন সঞ্চালনের কাজ দেয়া হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না জেভি কে (জেডএইচইসি/বিওডব্লিউএসএমইডিআরআইসি)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০ এমএলডি পানি মুহুরী প্রকল্পের রির্জাভার থেকে শোধনের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা হবে। 
কিন্তু সম্প্রতি পানি সঞ্চালন লাইনের কাজ করতে গিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। জোরারগঞ্জ-ইকোনমিক জোন সড়কের বুক চিড়ে পানি সঞ্চালন লাইন নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় সড়কটি। ফলে স্থানীয়রা কাজে বাধা দেয়। 


স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২১ কিলোমিটারের জোরারগঞ্জ টু ইকোনমিক জোন সড়কে দৈনিক অসংখ্য মাছবাহী ট্রাক ও পিক আপ চলাচল করে। কিন্তু জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য পানি সঞ্চালন লাইনের কাজ করতে গিয়ে ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্থ স্থান মেরামত করবে বলে জানায়। কিন্তু শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্থ স্থান মেরামত করলে বর্ষায় সড়কটি দেবে যাবে। তাই স্থানীয়রা কাজে বাধা দিয়েছিল। পরে সোমবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির সমাধান করেছেন। 

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘পানি শৌধানাগার’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হেলাল আহম্মদ বলেন, ৭৬১ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিতব্য পানি শৌধানাগারটি চলতি বছরের শেষের দিকে কাজ শেষ হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘পানি সঞ্চালন লাইন নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সোমবার স্থানীয় এমপি নুরুল আমিন সরেজমিনে এসে বিষয়টি সমাধান করেছেন। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে’। 

আরও পড়ুন: বাঁশখালীতে অভিযান: ট্রলিং বোট ও জাল জব্দ করে জেলেকে আটক
এবিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, স্থানীয়দের সাথে পানি সঞ্চালন লাইনের কাজে জড়িতদের সড়ক নিয়ে মতবিরোধ ছিলো। আমি গিয়ে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষার্থে সমাধান করে দিয়ে এসেছি।


Comments

Popular posts from this blog

আসছে চীনা বিনিয়োগ যা শত কোটি ছাড়াবে

চীনা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে ২২ মিলিয়ন ডলার

জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষায় সবুজ বেষ্টনী প্রয়োজন