৪,১৮৯ কোটি টাকার মেগা পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ বেজার

প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের আগে আনোয়ারা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৪,১৮৯ কোটি টাকার মেগা পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিল বেজা

ঢাকা — চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলকে (CEIZ) গতিশীল করতে ৪,১৮৯.৪৬ কোটি টাকার একটি বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। আগামী ২৩শে জুন, ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগেই নির্ধারিত চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে চূড়ান্ত ভূমি উন্নয়ন চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

​বিগত ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পটি অবশেষে বাস্তবায়ন স্তরে রূপ নিতে যাচ্ছে। নির্বাচিত চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যাতে দ্রুত অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কাজ শুরু করতে পারে, সেজন্য বেজা এই বড় অংকের অবকাঠামো প্রস্তাবনাটি সামনে এনেছে।


অর্থায়ন ও কৌশলগত কাঠামো

​এই বিশাল অবকাঠামোগত নকশাটি একটি যৌথ অর্থায়ন মডেলে পরিচালিত হবে:

  • বাংলাদেশ সরকার: রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ১,৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।
  • চীনা সরকারের সহায়তা: চীনের বিশেষ বায়ার্স ক্রেডিট (Preferential Buyer's Credit) সুবিধা থেকে ২,৪৬৭ কোটি টাকা নেওয়া হবে।

​জিটুজি (G2G) চুক্তির আওতায়, বেজা সংযোগ সড়ক, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো অফ-সাইট (বাহ্যিক) উপাদানগুলোর দায়িত্ব নেবে; অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কাজ তদারকি করবে 'চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন' (CRBC)।

উন্নয়ন পরিকল্পনার পরিধি

​কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত প্রায় ৮০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই শিল্প অঞ্চলের ব্লুপ্রিন্টে আধুনিক ইউটিলিটি ব্যবস্থার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে:

  • ​ডেডিকেটেড অ্যাক্সেস ব্রিজসহ একটি ২০,০০০ ডেডওয়েট-টন (DWT) ক্ষমতাসম্পন্ন বহুমুখী জেটি
  • ​অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে চলাচলের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চার লেনের সড়ক
  • ​পরিবেশবান্ধব শিল্পোৎপাদন নিশ্চিত করতে একটি ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP)

অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সময়সীমা

​এই সম্পূর্ণ অবকাঠামোগত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। তবে বেজার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা কাজ শুরুর প্রথম ৩ বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০% শিল্প প্লট কারখানা স্থাপনের জন্য প্রস্তুত করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

​কর্ণফুলী টানেল এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি কৌশলগত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আঞ্চলিক শিল্প খাতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখান থেকে অন্তত ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে এবং বস্ত্র, ওষুধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মতো প্রধান শিল্পগুলোতে ১,০০,০০০ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

Comments

Popular posts from this blog

আসছে চীনা বিনিয়োগ যা শত কোটি ছাড়াবে

চীনা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে ২২ মিলিয়ন ডলার

জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষায় সবুজ বেষ্টনী প্রয়োজন