রক্ষা হোক মিনি সুন্দরবন
রক্ষা হোক মিরসরাইয়ের মিনি সুন্দরবন
চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এবং ফেনী জেলার একাংশ জুড়ে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের (জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) একটি অংশে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছে এক নয়নকাড়া ‘মিনি সুন্দরবন’।
অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার শুরুতে বনায়নের একটি অংশের গাছপালা কেটে ফেলা হলেও, প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে সেই কাটা গাছের গোড়া ও বীজ থেকে নতুন করে এই বনের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এই কৃত্রিম-প্রাকৃতিক বনের ভেতরের পরিবেশ এতটাই নিবিড় ও সবুজ যে, সেখানে প্রবেশ করলে যে কারোরই মনে হবে তারা সরাসরি সুন্দরবনে চলে এসেছেন।
মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো দাবি—এই নতুন ইকো বনটি যেন কোনোভাবেই ইন্ডাস্ট্রির (শিল্পাঞ্চল) আওতাভুক্ত না করা হয় এবং এটিকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়।
বনের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মূল উদ্বেগ ও দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- প্রাকৃতিক ঢাল রক্ষা: স্থানীয়দের মতে, শিল্পনগরের জন্য লাখ লাখ গাছ কাটার পর এই ৪,১০৪ একর জমিতে প্রাকৃতিকভাবে যে সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ বন গড়ে উঠেছে, তা তাদের জন্য প্রকৃতির আশির্বাদ। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা হিসেবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচতে এই বনকে তারা প্রাকৃতিক ঢাল মনে করেন।
- দূষণ থেকে মুক্তি: বড় বড় কলকারখানার বিষাক্ত গ্যাস ও কার্বন নিঃসরণ থেকে এলাকাকে বাঁচাতে এই ইকো বনটি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এটি ধ্বংস করে ইন্ডাস্ট্রি করা হলে পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে।
- বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল: প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই বনে এখন শত শত হরিণ, অজগর ও বিরল প্রজাতির পাখি আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয়রা চান না কলকারখানার পরিধি বাড়িয়ে এই নিরীহ প্রাণীদের আবাসন ধ্বংস করা হোক।
- দখলমুক্ত ও স্থায়ী সংরক্ষণ: কক্সবাজারের সোনাদিয়ার মতো জমি ফেরত পাওয়ার পরও যেন এখানে কোনো প্রভাবশালী মহল কলকারখানা বা চিংড়ি ঘেরের নামে বন উজাড় করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয়রা কড়া নজরদারি ও স্থায়ী আইনি সুরক্ষা চান।
এক কথায়, স্থানীয় জনগণের স্পষ্ট বার্তা—শিল্পায়নের চেয়ে জীবন ও প্রকৃতির সুরক্ষা বেশি জরুরি। তাই এই ইকো বনটিকে সব ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে।
Comments
Post a Comment