কর রেয়াত সুবিধা পাচ্ছে দেশীয় ইলেকট্রিক গাড়ি

বাংলাদেশে ইলেকট্রিক যানবাহন (EV) শিল্পের বিকাশকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের শুল্ক সুবিধা ও কর রেয়াতের প্রস্তাব করেছে। আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও নীতিমালা
বাংলাদেশে ইলেকট্রিক কার এবং ইলেকট্রিক বাইক প্রস্তুতকারক বা সংযোজনকারীদের জন্য সরকার কিছু নীতিগত প্রণোদনা দিয়েছে:
জাতীয় বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতিমালা (খসড়া ও চলমান প্রক্রিয়া): সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রচুর পরিমাণে ইলেকট্রিক যানবাহন চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যে দেশে স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর রেয়াত, ভ্যাট অব্যাহতি এবং শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আমদানিতে শুল্ক সুবিধা: সম্পূর্ণ তৈরি (CBU) গাড়ি আমদানির তুলনায় স্থানীয়ভাবে গাড়ি বা বাইক সংযোজন (CKD/SKD) বা তৈরির ক্ষেত্রে পার্টস আমদানিতে তুলনামূলক কম শুল্ক দিতে হয়।
প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সুবিধা: যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করে ইলেকট্রিক কার বা বাইক তৈরি করে, তবে তারা শিল্প নীতি অনুযায়ী কর অবকাশ (Tax Holiday) এবং কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে।
কর রেয়াত বা সুবিধাগুলো কী কী হতে পারে?
স্থানীয় উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি যেসব সুবিধা পাওয়ার আশা করতে পারেন:
১. আয়কর অব্যাহতি: নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকার নির্দিষ্ট মেয়াদে (সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর) কর অবকাশ দিতে পারে।
২. VAT বা মূসক সুবিধা: স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত ইলেকট্রিক যানবাহনের খুচরা বিক্রয়মূল্যের ওপর ভ্যাট ছাড় বা কমানোর সুযোগ থাকতে পারে।
৩. শুল্ক সুবিধা: ব্যাটারি, মোটর, কন্ট্রোলার এবং অন্যান্য মূল যন্ত্রাংশ (যেগুলো বাংলাদেশে তৈরি হয় না) আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর বা আমদানি শুল্কে বিশেষ ছাড় পেতে পারেন।
আপনার করণীয়
বাংলাদেশে ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরির ব্যবসায় আসার আগে আপনার নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন:
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA): নতুন শিল্প বা কারখানা স্থাপনের জন্য এখান থেকে নিবন্ধন ও ছাড়পত্র নিতে হয়। তারা বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রযোজ্য বর্তমান কর প্রণোদনা সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত জানাতে পারবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR): প্রতি বছরের বাজেট অনুযায়ী সরকার নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর করের হার পরিবর্তন করে। সর্বশেষ বাজেটে ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরির উপকরণের ওপর কতটুকু শুল্ক বা কর ছাড় রয়েছে তা এনবিআর-এর প্রজ্ঞাপনে পাওয়া যাবে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক: সাভার বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর বা অন্য কোনো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপন করলে বড় ধরনের কর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
সারসংক্ষেপ: হ্যাঁ, বাংলাদেশে ইলেকট্রিক কার এবং ইলেকট্রিক বাইক তৈরির জন্য সরকার কর রেয়াত এবং প্রণোদনা দিচ্ছে। তবে এটি পুরোপুরি পাওয়ার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধিত প্রস্তুতকারক হতে হবে এবং এনবিআর-এর নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

আসছে চীনা বিনিয়োগ যা শত কোটি ছাড়াবে

চীনা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে ২২ মিলিয়ন ডলার

জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষায় সবুজ বেষ্টনী প্রয়োজন